দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি by Mufti Jubaer Ahmad, iErTA

Posted by iErTa on May 14, 2023

Last updated April 13, 2024

আলহামদুলিল্লাহ । এই দরসে আমরা দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ । মানুষ কোনো কিছু শিখতে চাইলে বিভিন্ন পদ্ধতিতে শিখতে পারে । উদাহরণস্বরূপ, স্কুলে গিয়ে জ্ঞান শিখতে পারে। নিজ মেহনতের মাধ্যমে শিখতে পারে। তৃতীয় পদ্ধতি হলো কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখা । যেমন সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি এগুলো এমন জ্ঞান, যা না কোনো স্কুলে গিয়ে শেখা যায়, না কোনো বই-পুস্তকে পাওয়া যায়। বরং এর জন্য প্রয়োজন প্র্যোক্টিকেল অভিজ্ঞতা । ইলমে দাওয়াত এমন এক জ্ঞান, যা তিন প্রকারের জ্ঞানের প্রয়োজন। ১. উস্তাদের নেগরানী। ২. আমলী অভিজ্ঞতা । ৩. মুতালাআ বা অধ্যায়ন । একজন দা'য়ী জীবনভর শিক্ষার্থী হিসেবেই থাকবে । এই জন্য যেখানেই হেকমত, প্রজ্ঞার কথা পাবে সেখান থেকেই তা গ্রহণ করবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন হেকমত মুমিনের হারানো সম্পদ যেখানে পাবে তার অধিক হকদার হলো মুমিন ।

দাওয়াতের মাপকাঠি কুরআন ও সুন্নাত

পূর্ববর্তী উম্মতগণ শুরুতে তাদের নবীর পদ্ধতিতে দাওয়াতী কাজ আঞ্জাম দিতেন । কিন্তু পরবর্তী লোকজন নিজের পক্ষ থেকে কিছু সংযোগ করে নিত । এক পর্যায়ে তারা আসল পথ থেকে দূরে সরে যেত। মানুষ যদি সর্বদা আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করতো, তাহলে নবীদের পাঠানো প্রয়োজন হতো না। রদবদল করা মানুষের অভ্যাস। সে কিছু রদবদল করে। ফলে সোজা পথ থেকে ছিটকে যায়। এই জন্য আমাদের উচিত আমরা যেন আমাদের কাজের পদ্ধতির প্রতি খেয়াল রাখি। আমরা যদি কুরআন সুন্নাহর পথে লেগে থাকতে পারি তাহলে আশা করা যায়, সঠিক পথে লেগে থাকতে পারব । আল্লাহ তা'আলা আমাদের মেহনতকে কবুল করুন ।

দাওয়াতী পদ্ধতিতে স্বাধীনতা

একজন দা'য়ীর জন্য তার দাওয়াতী কাজের কর্মপদ্ধতিতে রয়েছে স্বাধীনতা। কুরআন মাজিদে দাওয়াতের জন্য অনেকগুলো পদ্ধতি বলা হয়েছে। দা'য়ী সেগুলো থেকে যেকোনো একটি গ্রহণ করে দাওয়াত দিতে পারবে । ইসলামে অনেক বিষয় এমন আছে, যা নির্দিষ্ট। সেখানে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। এমনকি বুদ্ধি খাটানোরও অনুমতি নেই । যেমন নামাজ পড়া । এখানে কারো পরিবর্তন করার কোনো অধিকার নেই । কিন্তু এমন কিছু বিষয় আছে যেখানে মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী গ্রহণ করার অধিকার আছে। যেমন পোশাক এখানে শরিয়ত একটি গণ্ডি ঠিক দিয়েছে । এই গণ্ডির ভেতর তার স্বাধীনতা রয়েছে । কাপড় টাখনুর নিচে হতে পারবে না । মহিলাদের সাদৃশ্য হতে পারবে না। অমুসলিমদের পোশাকের সাদৃশ্য হতে পারবে না ইত্যাদি । ঠিক দাওয়াতের পদ্ধতির ক্ষেত্রেও স্বাধীনতা রয়েছে । কারণ মাদউ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, তাদের চিন্তা ফিকিরও থাকে ভিন্ন ভিন্ন। প্রত্যেক মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতিও হয় ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ ২০বছরের তিন জন যুবক দাঁড়ানো আছে। তাদের মধ্যে একজন উচ্চ শিক্ষিত । আর একজন মেট্রিক পাস আর একজন অশিক্ষিত এই তিন জনকে দাওয়াত দেওয়ার পদ্ধতি এক হবে না । তিনজনের চিন্তাধারা যোগ্যতাকে সামনে রেখে দাওয়াত দিতে হবে । প্রত্যেকের মানুসিকতার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে । আল্লাহ তা'আলা বলেন- । ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي أحسن إنّ ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بالمهتدين "আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহ্বান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে ও উত্তমরূপে উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন পছন্দযুক্ত পন্থায় । নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভালো জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে ।" (Surah Nahl: 125)
এই আয়াতের মধ্যে তিনটি পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। শিক্ষিত লোকের সামনে শিক্ষার আলোকে আলোচনা করা। অশিক্ষিত ব্যক্তিদের সামনে উপদেশের ভঙ্গিতে কথা বলা । তৃতীয় পদ্ধতি হলো যদি কেউ বিতর্ক করতে আসে তার সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করা । মাদউর মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা যুক্তি দ্বারা উত্তর পেলে প্রশান্তি পায় । আর কিছু লোক আছে যারা আবেগি কথা দ্বারা সন্তুষ্ট হয় । কুরআনে উভয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি বলা হয়েছে । যেমন আবেগি আলোচনা করতে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন- يا أيها الإنسان ما غرك بربك الكريم (6) "হে মানুষ! তোমাকে কোন জিনিস তোমার রব থেকে ধোঁকায় রেখেছে।" (Surah Infitar: 6)
এটা ছিল আবেগি পদ্ধতি । আর যুক্তির দ্বারা যারা প্রাভাবিত হয় তাদের জন্য কুরআন বলে- لو كان فيهما اله إلا الله لفسدتا فسبحان الله رب العرش عما يصفون "আসমান জমিনের মাঝে যদি আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ থাকতো তাহলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়ে যেত ।" (Surah Anbiya: 22) অনেক আজকাল প্রত্যেক দা'য়ীর দাবী হলো, কুরআন সুন্নাহ অনুযায়ী দাওয়াত দিচ্ছে । বরং দাওয়াত দিচ্ছে বাইবেল, বেদ, গীতা, ইত্যাদির মাধ্যমে । কিন্তু ওই দা'য়ীর কুরআনের কোনো অংশ মুখস্ত নেই। কুরআন থেকে দূরে । আর কিছু লোক এমন আছে যারা রাজনৈতিক লোকদের মতো স্টেজ তৈরি করে দাওয়াতেরনামে প্রোপাগান্ডা করে । আর কিছু লোক এমন আছে যারা এসলাহী কাজ করে আর মনে করে, দুনিয়াতে আমরাই দাওয়াতী কাজ করছি । কিছু সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো রাজনীতি, আর দাওয়াতকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার । এইজন্য তাদের দাওয়াতের রুখ থাকে রাজনীতির দিকে । এসব কাজ হলো দাওয়াত থেকে অনেক দূরে। এইজন্য আমাদেরকে সর্বদা দাওয়াতের ক্ষেত্রে পূর্বসুরিদের অনুসরণ করতে হবে ।

দাওয়াতের মধ্যে পরিবেশের প্রতি খেয়াল

দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রতি খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। যেমন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কী জীবনে চার স্তরে দাওয়াতী কাজ করেছেন । নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবেশের প্রতি খেয়াল রেখে দাওয়াতী কাজ করেছেন। শুরুর তিন বছর গোপনে দাওয়াত দিয়েছেন । এর দ্বারা দা'য়ীর মাঝে এক ধরনের বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। গোপনে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে দুটো জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আজ কী করেছি তা যেন কেউ না জানতে পারে । আর আগামী কাল কী করবো তাও কাউকে বলবো না । আল্লাহ তা'আলা সকল দা'য়ীকে সুন্নতী পদ্ধতি বোঝার তৌফিক দান করুন । আমিন । উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায় যে, দা'য়ীর জন্য মানুষের মনস্তাত্তিক অবস্থা জানা খুবই জরুরি। যেমন সন্তানের সাথে বাবার আচরণ এক রকম, আর মায়ের আচরণ থাকে সন্তানের সাথে বাবার তুলনায় একটু ভিন্ন । মাদউর সাথে দা'য়ীর আচরণ কেমন হবে? বাবার আচরণ না মায়ের আচরণ, আমি বলব, মায়ের আচরণ । মা যেমন সন্তানকে স্নেহ ভালোবাসা, হিতাকাঙ্ক্ষিতার ও নিজের মনে করে আচরণ করে, ঠিক একজন দা'য়ী মাদউর সাথে মায়ের মতো মমতা, দরদ, ভালোবাসা নিয়ে কথা বলবে, স্নেহ ও দয়ার আচরণ করবে। ডাক্তার তার রোগীর সাথে আর ওকিল তার মক্কেলের সাথে এক ভঙ্গিতে কথা বলে না। ডাক্তার কথা বলে নরম ভাষায় হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে । আর উকিল কথা বলে আইনের ভাষায় শক্ত মেজাজে। দা'য়ী এখানে কার পদ্ধতি অবলম্বন করবে? ডাক্তার না উকিলের? অবশ্যই ডাক্তারের । কারণ আল্লাহ তা'আলা ফেরাউনকে দাওয়াত দিতে যাওয়ার সময় মুসা আ. কে বলেছিলেন । ফেরাউনের সাথে নরম ভাষায় কথা বল ।

মাদউর আর একটি মানসিকতা মাদউ যতই শিক্ষিত হোক না কেন সে ইসলামের শিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিশু। পাঁচ বছরের শিশু যেমন তার মাকে প্রশ্ন করে যে, আম্মা আল্লাহ কেমন? মা বলে আল্লাহ অনেক বড়। ছেলে বলে আল্লাহ কি আব্বুর থেকেও বড়। মা বলে হ্যাঁ, আল্লাহ তোমার আব্বুর থেকেও বড় । এমনিভাবে মাদউ বিভিন্ন আশ্চর্য রকমের প্রশ্ন করতে পারে । এক্ষেত্রে মায়ের মতো ধৈর্যশীল হয়ে উত্তর দিতে হবে । রাগ করা যাবে না ।

যেমন, ভারতে বিহার প্রদেশের একটি ঘটনা, একবার এক ইমাম সাহেব কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করছিলেন। এমন সময় এক হিন্দু অ্যাডভোকেট সাহেব ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কী পড়ছেন? তিনি বললেন কুরআন শরীফ, আল্লাহর কালাম, আল্লাহ আসমান থেকে পাঠিয়েছেন । অ্যাডভোকেট জিজ্ঞাসা করলেন আল্লাহ কি রশি দিয়ে তা আসমান থেকে পাঠিয়েছেন? ইমাম সাহেব ভালোভাবে বুঝিয়ে বললেন এবং দাওয়াত দিলেন, পরবর্তীসময়ে লোকটি মুসলমান হয়ে গেলেন ।

সার্বক্ষণিক চেষ্টা

দুনিয়াতে যেকোনো প্রকারের সফলতার জন্য আল্লাহ তা'আলার অটুট কানুন হলো এই, মানুষ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা সাধনা করবে। উদাহরণ স্বরুপ দুইজন মানুষের কাছে এক বিঘা করে জমি আছে। একজন অনেক চেষ্টা মেহনত করে তরি-তরকারি উৎপাদন করলো । অপরজন কোনো চেষ্টাই করলো না । এবার আপনারাই বলুন এই দুইজনের মধ্যে কে সফল হবে? অবশ্যই যে চেষ্টা মেহনত করেছে, সেই সফল হবে। আল্লাহর এই নিয়ম-কানুন সকলের জন্য সমান। চাই মুসলমান হোক চাই অমুসলিম হোক । এইজন্য আল্লাহ তা'আলা আম্বিয়াদের দিয়ে মেহনত করিয়েছেন । নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে দুইটি ঘটনা পেশ করছি । আল্লাহ তা'আলা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এক রাত্রে মক্কা থেকে বাইতুল মুকদ্দাস, এরপর সাত আসমান ঘুরিয়ে নিয়ে এসেছেন । এর উল্টো আর একটি ঘটনা, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করতে হলো। মক্কা থেকে মদিন ৫০০ কিলোমিটারের পথ । আল্লাহ তা'আলা চাইলে এক পলকেই এই সফর করিয়ে দিতে পারতেন । কিন্তু এমনটি করেননি । বরং আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে, দেখি আমার বান্দা আমার পথে কী পরিমাণ কষ্ট সহ্য করতে পারে। দুনিয়াতে প্রত্যেক জিনিসের জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়। নির্দিষ্ট সময়ে যে ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত মেহনত করতে পারবে, সেই পারবে সমাজে বিপ্লব সৃষ্টি করতে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২৩ বছর কাঙ্ক্ষিত মেহনত করে মক্কা ও মদিনাতে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দ্রুতগতিতে, নির্দিষ্ট সময়ে, যে কেউ, যেকোনো মেহনত, চেষ্টা-সাধনা করবে, সে-ই সমাজে এক বিপ্লব সৃস্টি করতে পারবে। এই মূলনীতি মুসলিম অমুসলিম সবার জন্য সমান ।

গতি

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে হযরত উমর রা. কাফের অবস্থায় তার বোনের ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। কিছুক্ষণ পর ইসলামের সাহায্যকারী হয়ে বের হলেন । ঘরে প্রবেশ করা আর বের হওয়ার সময় ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত । এর বিপরীত একজন মানুষ অল্প সময়ে ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে সেই পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে না। সে যুগে দাওয়াতী কাজের জন্য উট দিয়ে সফর করতে হতো। এখন আমাদের সর্বাধুনিক দ্রুতগামী জানবাহন পাওয়া যায়। আমরা সে সব মাধ্যম দিয়ে অল্প সময়ে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত পৌছাতে পারি । সে যুগের তুলনায় এই যুগে মানুষের বসবাসও ঘনবসতি। দাওয়াতী কাজের জন্য এই বিষয় বিবেচনা করতে হবে । অন্যথায় সফল হওয়া অসম্ভব ।

দায়েমী সুন্নাত

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত প্রাপ্তির পর, জীবনের ২৩টি বছর, আল্লাহর বান্দাদের কাছে আল্লাহর পয়গাম পৌঁছার কাজে অতিবাহিত করেছেন । এই দাওয়াতী কাজ ছিল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ভুল ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড় সুন্নাত । শয়তান আমাদের মাঝে একটি ধারণা সৃষ্টি করে দিয়েছে তা হলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় দাওয়াতী কাজ করেছেন, আর মদিনায় যুদ্ধ জিহাদ করেছেন। এটি একটি শয়তানের ওয়াসওয়াসা । নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি যুদ্ধের জন্য পাঠানো হয়েছিল? কখনও না । তাহলে তিনি যুদ্ধ কেন করেছেন? যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো ফেতনা দূর করা, দাওয়াতী কাজের প্রতিবন্ধকতাকে দূর করা।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২৩ বছরই রাসূল ছিলেন । এমন তো নয় যে, তিনি মক্কী জীবনে রাসূল ছিলেন, আর মাদানী জীবনে রাসূল ছিলেন না । (নাউযুবিল্লাহ) ।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াতী কাজে পুরো জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন । কিন্তু নবীজীর এই সুন্নাতটি আমাদের পছন্দ হয় না। কারণ এটাতো একটি ভারী সুন্নাত। আমাদের প্রয়োজন হালকা সুন্নাত । যেমন সুগন্ধি ব্যবহার কারা, মিষ্টি খাওয়া ইত্যাদি । এধরনের সুন্নাত আমাদের কাছে খুবই পছন্দ । কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমাদের কাছে অপছন্দ । এটা কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এত্তেবা, আনুগত্য? না কখনও না । গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত ছেড়ে, ছেট ছোট সুন্নাতের ওপর আমল করা কোন্ ধরনের সফলতা । যেই সুন্নাতটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেই সুন্নাতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ।
দাওয়াত কিভাবে দেবো এ ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ‘সহজ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও বিভেদ সৃষ্টি করো না ।

এর সুন্দর দৃষ্টান্ত হলো, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআজ ইবনে জাবাল রা.-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বললেন- আল্লাহর দাওয়াত দাও তারা যদি মেনে নেয় তাহলে আমার রেসালাতের দাওয়াত দাও । তা যদি মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে বল, দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ । এটাও যদি মেনে নেয় তাহলে তাদেরকে বল তোমাদের সম্পদের ওপর গরিবদের হক আছে, অংশ আছে । এটাও যদি তারা গ্রহণ করে নেয় তাহলে তাদেরকে কষ্ট দিবে না ।

অনেক নওমুসলিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আপনার ইসলাম গ্রহণের কারণ কী? তাদের অধিকাংশই বলেছে ইসলাম একটি সহজ ধর্ম । বাকি ধর্মগুলো না বোঝা যায়, না মানার যোগ্য। খ্রিস্টানদের বিশ্বাসের মূলনীতি হলো তৃত্ববাদ । পিতা, পুত্র, পবিত্র আত্মা এই তিনে মিলে এক । খুব আশ্চর্য ধরনের একটি বিশ্বাস। আর ইসলামের বিশ্বাস খুবই সহজ। আর তাকে সহজভাবেই পেশ করা উচিত ।

আমাদের অবস্থা হলো, ধীরে ধীরে দাওয়াত দেওয়ার পরিবর্তে আমরা চাই কাউকে একবার ইসলামের দাওয়াত দেবো, সঙ্গে সঙ্গে কবুল করে ফেলবে আর তৎক্ষণাত আমল করা শুরু করবে । এমনটি সম্ভব না। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এই সুন্নাতের আলোকে দাওয়াতী কাজ করার তৌফিক দান করুন ।

আমরা যখন দাওয়াতী কাজ করবো, তখন মাদউকে বোঝানোর জন্য প্রথমে উপযোগী সময় নির্ধারণ করব। এর প্রমাণ হলো হযরত ইউসুফ আ. এর ঘটনা । তিনি যখন জেলে ছিলেন, তখন তার সাথে আরো দুজন কয়েদি ছিল ইউসুফ আ. -এর সাথে থাকতেন । ইউসুফ আ. এর চাল- চলন ছিল অন্যদের থেকে ভিন্ন। তাঁর আখলাক দেখে যখন তারা সমস্যার সমাধানের জন্য তাঁর কাছে এলো তখন তিনি তাদেরকে দাওয়াত দিলেন ।

মাদউ যদি দা'য়ীর প্রতি ভালো ধারণা রাখে, তাহলে এই কাজ সহজ হয়ে যায়। যেমন একবার আবু জাহেল নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবাদেরকে মারল। আব্দুল্লাহ বিন মাআনের মেয়ে পুরো দৃশ্য দেখেছিলেন । হামজা যখন মক্কায় এলেন তখন পুরো ঘটনা তার সামনে বর্ণনা করলেন । হামজা আবু জাহেলের কাছে গিয়ে তাকে মার-পিট করলেন, প্রতিশোধ নিয়ে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললো ভাতিজা! আমি প্রতিশোধ নিয়ে এসেছি। তুমি কি খুশি? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ঐ সময় খুশি হবো যখন আপনি মুসলমান হবেন। হযরত হামযা সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম কবুল করলেন । এমনিভাবে দা'য়ীর উচিত মাদউর অবস্থা দেখে কাজ নিবে ।

মুসলমান এবং অমুসলিম উভয়কে দাওয়াত দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। যেমন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একবার জিব্রাইল আ. অপরিচিত ব্যক্তির রূপ নিয়ে এলেন । এসে নবীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন- আচ্ছা বলুন তো! ইসলাম কী? এহসান কী? কেয়ামত কখন আসবে? নবীজী উত্তর দিলেন। উনি চলে যাওয়ার পর সাহাবাদের জিজ্ঞাসা করলেন এই লোকটি কে তোমরা জানো? সাহাবাগণ উত্তর দিলেন আল্লাহ এবং তার রাসূল ভালো জানেন । তিনি বললেন, তিনি হলেন জিব্রাইল আ.- তিনি তোমাদেরকে দীন শেখানোর জন্য এসেছিলেন । অর্থাৎ মুসলমান দীন শিখবে তরতিব অনুযায়ী ।

এখন রইল অমুসলিমদেরকে কিভাবে দাওয়াত দেবো। এর জন্য মক্কীযডপ সুরাগুলো ভালো করে পড়লেই তা শেখা হয়ে যাবে। কারণ মক্কি সুরাগুলো অমুসলিমদেরকে সামনে রেখেই অবতীর্ণ হয়েছে । আল্লাহ তা'আলা নবীজীর পরিচয় করতে গিয়ে বলেন ।

هو الذي بعث في الأميين رسولا منهم يتلو عليهم آياته ويزكيهم ويعلمهم الكتاب والحكمة وإن كانوا من قبل لفي ضلال مبين "তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত । ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।" (Surah Al-Jumu`ah: 02)

এই আয়াতের মধ্যে অমুসলিমদেরকে বুঝানোর পদ্ধতি বলা হয়েছে এবং এরমধ্যে আম্বিয়া আ. এর দাওয়াতী কাজের চারটি বৈশিষ্ট বলা হয়েছে ।

১. আল্লাহর পরিচয়সংক্রান্ত আয়াতগুলো তেলাওয়াত করে শোনানো ।

2. আত্মশুদ্ধি করা ।

৩. কিতাবের তালিম দেওয়া।
৪. হেকমতের কথা বলা ।

আজ-কাল আমরা অনেক মুসলমান অমুসলিমদেরকে অনুবাদসহ কুরআন শরিফে দিয়ে দিই । এর উদহারণ হলো এমন, কেউ মাথা ব্যথার জন্য ডাক্তার সাহেবের কাছে গেল, ডাক্তার সাহেব তাকে একটি বই দিয়ে বললেন এই বইয়ে এর ওষুধ লেখা আছে। এখন যদি রোগী সারা জীবন এই বই পড়ে করে, তবুও হয়ত তার সমস্যার সমাধান হবে না । এর জন্য ডাক্তারের দায়িত্ব ছিল, এই রোগের ওষুধ লিখে দিয়ে এই কথা বলা যে, কোনো ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে নেন । এমনিভাবে একজন দা'য়ীর দায়িত্ব হলো মাদউর সামনে মুনাসিব আয়াত নির্বাচন করে তাকে শোনানো । এটাই ছিল আম্বিয়া আ.- এর পদ্ধতি । অনেক মুসলমান প্রশ্ন করে, অমুসলিমদেরকে আরবী কুরআন পড়ে শোনালে লাভ কী? এর উত্তর হলো আরবী কুরআনের মাঝে এক আশ্চর্য ধরনের প্রভাব আছে । এই আয়াত শুনে অনেক মানুষের চোখ থেকে পানি ঝরে । আমরা বলি না যে, শুধু আরবীতে শোনান বরং তার সাথে অনুবাদও শোনান । কুরআন কারীমের আয়াত শোনানোর ব্যাপারে আপনাদেরকে কয়েকটি ঘটনা শুনাচ্ছি। একবার মক্কার মুশরিকদের নেতারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সন্ধির জন্য উতবাকে পাঠালো । নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথা শুনে বললেন তোমার কথা শেষ? সে বললো হ্যাঁ শেষ । এবার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুরা হা- মিম সেজদা থেকে শুরুর অংশ পড়া শুরু করলেন। ১৩নং আয়াত পর্যন্ত পৌছার পর সে নবীজীর মুখে হাত রেখে বললো, খ্যান্ত কর মুহাম্মদ । তোমার জাতির ওপর রহম কর ।

কিছুদিন আগে আমাদের এক ছাত্র এক হিন্দু লোককে দাওয়াত দেওয়ার সময় কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করছিল, আর তখন ওই ব্যক্তির চোখ থেকে ঝরঝর করে পানি বের হতে লাগল ।

এবার প্রশ্ন হলো, মাদউর সামনে কোন্ আয়াতগুলো তেলাওয়াত করবো?

উত্তর হলো, পুরো কুআনই হলো হেদায়াত । তবে মাদউর অবস্থা দেখে তার পর সে অনুযায়ী আয়াত পড়া ।

# নাজ্জাশির দরবারে জাফর ইবনে আবি তালিব সুরা মারয়াম তেলাওয়াত করে শুনিয়েছেন ।

# মক্কী সুরার আয়াতের শেষে মাদউর নাম বয়ান করা হয়েছে। যেমন ইয়া'লামুন, ইয়াকিলুন, ইয়াতা জাক্কারুন, ইয়াতা দাব্বারুন । ইত্যাদি । এসব আয়াত ব্যবহার করা যেতে পারে।

কুরআনে আয়াত শব্দের দুই অর্থে ব্যবহার হয়েছে। ১. আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হওয়া কুরআন। ২. আল্লাহর নিদর্শনাবলী যেমন আসমান জমিন, চাঁদ-সূর্য ইত্যাদি । # আম্বিয়া আ. এর আখলাকের মাধ্যমে মানুষ মুসলমান হতো আর আমরা ?

# ইয়াহুদী মেহমান হওয়ার ঘটনা ।

ফুলটাইম

একজন দা'য়ীর জীবন দাওয়াতের ক্ষেত্রে পার্টাইম হওয়া উচিত নয় । বরং পুরো জীবন ওয়াকফ করে দেওয়া উচিত । নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের পুরো সময় দাওয়াতের জন্য ব্যবহার করেছেন। তিনি দা'য়ীদের জন্য আদর্শ। হযরত নুহ আ.- এর দাওয়াতের জীবন নিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আমার রব! আমি আমার জাতিকে দিনরাত দাওয়াত দিয়েছি । আম্বিয়া আ. এই কাজকে নিজের ফুলটাইম কাজ বানিয়েছিলেন আর আমরা বানিয়েছি পার্টাইম । এই জন্য এই কাজকে নিজের জীবনের মাকসাদ বানাতে হবে।

দাওয়াতের কাজের জন্য কিছু সময় নির্দষ্ট করা যেমন আটঘণ্টা ইত্যাদি এইটা ইয়াহূদী দর্শন । এক জন মুমিনের উচিত সে পঞ্চাশ বছরের জীবনে একশত বছরের কাজ করবে। সকাল বেলায় উঠে দুপর বারটা পর্যন্ত কাজ করবে। এরপর একটু আরাম করে আবার একটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত কাজে লেগে থাকবে। এই আমলের জন্য শর্ত হলো এশার নামাযের সাথে সাথে ঘুমিয়ে যাওয়া ।

শর্তসমূহ- ১. এখলাস। ২. শয়তান থেকে দূরে থাকা । ৩. আল্লাহর নৈকট্য । ৪. সার্বক্ষণিক চেষ্টা । ৫. নিয়ত করা। ৬. দুআ। ৭. মাদউর সাথে সম্পর্ক তৈরি । ৮. পরিচিত অমুসলিমদের ভুলধারণা দূর করা । ৯. কুরআনের আয়াত পড়া । ১০. মাদউর হেদায়াতের জন্য দুআ ।

দাওয়াতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও দা'য়ীর গুণাবলী

স্থান কাল পাত্র বিশেষ মাদউর (আহ্বানকৃতের) অবস্থানের দিকে খেয়াল করে কিছু মূলনীতি এখানে পেশ করা হলো, যার ওপর আমল করা একজন দা'য়ীর জন্য খুবই জরুরি ।

১ । নিয়তকে শুদ্ধ করবে । অর্থাৎ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে দাওয়াত দিবে।

২ । নিজের দাওয়াতের ওপর ১০০ ভাগ আস্থা ও বিশ্বাস রাখবে । ৩। বিশেষ করে হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন গ্রুপের ও আকিদা- বিশ্বাসের ওপর ধারণা রাখতে হবে ।

৪। খুব হিতাকাঙ্ক্ষিতা ও মুহাব্বতের সাথে স্থান-কাল পাত্র ভেদে প্রয়োজনীয় কথা বলবে ।

৫। হিন্দু ভাইদের পরিভাষায় তাদের সাথে কথা বলা। যেমন স্বর্গ (জান্নাত) নরক (জাহান্নাম) ইত্যাদি ।

৬ । জাতীয়তা অর্থাৎ আমরা একই পিতা-মাতার সন্তান। আদম হাওয়া সকলের পিতা-মাতা । আর পিতার সন্তান ভাই হয়ে থাকে, এভাবে ভাইয়ের সম্পর্ক বের করে কথা শুরু করা। প্রথমে তাওহীদের ব্যাপারে কথা বলা । এর পর কথার মোড় ঘুরিয়ে আখেরাতের কথা শুরু করা এবং আখেরাতের লাভ ক্ষতি বোঝানো । তারপর রেসালাতের কথা শুরু করা ।

৭ । দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করা । যেমন নামায পড়ে দুআ করা ।

৮ । প্রমাণবিহীন কথা পরিহার করা, শক্তিশালী ও বিশুদ্ধ প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা ।

৯ । মাদউর (আহ্বানকৃত ব্যক্তির) বুদ্ধির পরিধি ও তার চিন্তাধারার প্রতি লক্ষ্য রাখবে ।

১০। দা'য়ী শুধু আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেবে ।

১১ । তাড়াহুড়া পরিহার করবে ।

১২ । দা'য়ীর আমল হবে পরিপূর্ণ সুন্নত মুতাবিক, দা'য়ী যেই জিনিসের দিকে দাওয়াত দেবে তার ওপর নিজের আমল থাকতে হবে, যাতে সে অন্যের জন্য আদর্শ হতে পারে ।

১৩। দা'য়ী উত্তম চরিত্রের অধিকারী হবে এবং দাওয়াতের কৌশল অবলম্বন করবে । কেননা এটা তার দাওয়াত কবুল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ।

১৪ । দা'য়ীর মাঝে দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে। দা'য়ীর জন্য জরুরি যে, সে দৃঢ় বিশ্বাসী হবে। নিজের দাওয়াতের আছর (প্রতিক্রিয়া) এবং নিজের সম্প্রদায়ের হেদায়াত থেকে নিরাশ হবে না, মন ভাঙবে না, যদিও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয় । তাই আম্বিয়াদের জীবনী উত্তম আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা, যেমন নূহ আ. -এর ঘটনা ।

১৫ । দা'য়ী ইলম অনুযায়ী আমল করবে, একজন দা'য়ীর জন্য জরুরী সে যা শিখবে তার ওপর আমল করবে।

১৬ । সর্বসম্মত বিষয় দ্বারা আলোচনা শুরু করবে ।

১৭ । ক্রোধ বর্জন করবে, ধৈর্য ধারণ করবে।

১৯ । নরম ভাষায় কথা বলবে । অশ্লীলতা ও রুক্ষতা পরিহার করবে ।

২০ । উপস্থিত প্রমাণ না থাকলে তাহকীক (বিশ্লেষণ) ও গবেষণার জন্য সময় নেবে ।

২১ । যুক্তিহীন বিতর্ক থেকে বেঁচে থাকবে ।

২২। প্রতিপক্ষের কথা মনোযোগসহ শুনবে, তার প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর দিবে ।

২৩ । মাদউর (আহ্বানকৃতের) বড়দের (দেবদেবীদের) ভর্ৎসনা ও তিরস্কার করবে না ।

২৪। নিজের বিপরীত অবস্থান সঠিক হলে সেই সত্য স্বীকার করে নেবে।

২৫ । তাদের জন্য বদদুআ করবে না ।

২৬ । গর্ব অহংকার পরিত্যাগ করে নম্রতা গ্রহণ করবে ।

২৭ । দা'য়ীর সমস্ত ইবাদত হবে শুধু আল্লাহর জন্য ।

২৮। দা'য়ীর মধ্যে পরিপূর্ণ ইখলাস থাকতে হবে ।

২৯ । দাওয়াতের পূর্বে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে ও মাদউকে তুচ্ছ মনে করবে না ।

৩০। দা'য়ী মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে ও মেহমান প্রিয় হবে।

৩১ । স্মরণ রাখবে হেদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ ।

৩২। দাওয়াতের পদ্ধতি সীরাত পাঠের মাধ্যমে নবুওয়াতের নূর হতে গ্রহণ করতে হবে।

৩৩ । দা'য়ীর মধ্যে স্নেহ ও মমতা থাকতে হবে ।

৩৪ । দা'য়ীকে খুবই বিনয়ী হতে হবে ।

৩৫ । দা'য়ীকে ক্ষমাশীল হতে হবে।

৩৬ । দা'য়ীকে সহনশীল ও ধৈর্যশীল হতে হবে।

৩৭ । দা'য়ীকে দুনিয়াবিমুখ হতে হবে ।

৩৮ । দা'য়ীকে মু'আমালার মধ্যে তাকওয়া অর্জন করতে হবে । তথা হালাল রুজি অর্জন করতে হবে ।

৩৯ । দা'য়ীকে তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।

৪০। দা'য়ীকে অন্যের দোষ ও ত্রুটি গোপন করতে হবে ।

৪১ । দা'য়ী অন্যকে নিজের চেয়ে উত্তম মনে করবে, নিজেকে ছোট মনে করবে।

৪২ । দাওয়াতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক ।

৪৩ । দা'য়ী তাহাজ্জুদে আল্লাহর কাছে খুব কান্নাকাটি করবে ।

৪৪ । মাদউর (আহ্বানকৃতের) হৃদয়কে দাওয়াতের টার্গেট বানাবে ।

৪৫ । দা'য়ীর জন্য আরও একটি মৌলিক গুণ বা দাওয়াতের বুনিয়াদী মূলনীতি হলো দা'য়ী কোনো লোভ-লালসা ছাড়াই দাওয়াতের কাজ করবেন । যেমন পবিত্র কুরআনে নবীদের ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ হয়েছে যে, তাঁরা নিজ নিজ সম্প্রদায়কে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন- “আর আমি এ দাওয়াতের বদলে তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাই না ।” আর না তোমাদের কোনো জিনিসের প্রতি আমার লোভ আছে ।


আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন । ( আমীন )